www.muktobak.com

খবর পড়া ও ব্যবসা - দুটোই ভীষণ চ্যালেঞ্জ


 মুক্তবাক রিপোর্ট    ৫ জুন ২০১৯, বুধবার, ১০:২৭    সাক্ষাৎকার


জান্নাত সাথী । নিউজ অ্যাংকর হিসেবে প্রায় দেড় বছর ধরে খবর পড়ছেন ২৪ ঘন্টার সংবাদ ভিত্তিক চ্যানেল ডিবিসিতে। এরআগে চার বছর কাজ করেছেন চ্যানেল নাইনে।  পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছেন শাড়ির অনলাইন বিজনেস "সাথী'স ডিজাইন'। মুক্তবাকের সঙ্গে আলাপাচারিতায় জেনে নেব তার সম্পর্কে।

মুক্তবাক : জন্ম এবং বেড়ে ওঠা কোথায়?
জান্নাত সাথী : গ্রামের নাম কানহর। ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার সবুজ শ্যামল শান্ত কানহর গ্রামেই ১৯৮০ সালে ১৭ ই জানুয়ারিতে জন্ম আমার।। পিতা মরহুম আব্দুল মোত্তালেব, মাতা জীবন নাহারের তৃতীয় সন্তান আমি।। পাঁচ বছর বয়স অব্দি গ্রামেই বেড়ে উঠা। এরপর স্বপরিবারে ময়মনসিংহ শহরে চলে আসা। শহরে বসবাস করলেও গ্রামের প্রতি ভীষণ টান আর প্রিয় ব্যক্তি দাদীর সান্নিধ্যে পাবার আগ্রহে প্রায়ই ছুটে যেতাম গ্রামে।

সেখানকার বাউন্ডুলে জীবন আর দাদীর আদর আর আহ্লাদে শহরে ফিরতে চাইতাম না। কখনো গাছে, কখনো মাঠে, কখনোবা পুকুরে ভেলা ভাসিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিতাম বন্ধুদের সাথে। সেই বাউণ্ডুলে জীবনের কারণেই হয়তো এখনো আমাকে প্রকৃতি ভীষণ টানে।


মুক্তবাক : পরিবার সম্পর্কে জানতে চাই।

জান্নাত সাথী :  বাবা-মার ছয় সন্তানের মধ্যে আমি ৩য় ও বোনদের মধ্যে ছোট। বলা যায় ভাইবোনের মধ্যে দাদী আর বাবার মধ্যমণি ছিলাম আমি।  দীর্ঘ কুড়ি বছরের নিজ সংসারে বিদূষী বর্ণমালা ও বহতা নির্ঝরিনী দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

মুক্তবাক : পড়ালেখার কোথায় শুরু, কোথায় শেষ? বিষয় কী?

জান্নাত সাথী : ময়মনসিংহ শহরের নওমহল এলাকার 'সান ফ্লাওয়ার প্রি-ক্যাডেট অ্যান্ড হাই স্কুলেই শুরু ও সমাপ্তি হয় স্কুল জীবনের। পরবর্তীতে শহরের মমিনুন্নেসা সরকারি কলেজে বিজ্ঞান শাখায় এইচএসসিতে ভর্তি হওয়ার তিন মাসের মাথায় পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই চাকরীজীবী মামুন ইকবালের সাথে। অগত্যা পরের বছর ঢাকায় কলেজ পরিবর্তন করে ভর্তি হই মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইন্সটিটিউট এ। সেখানে মানবিক শাখা থেকে এইচএসসি শেষ করি। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগে ভর্তি হই। সেখান থেকেই অনার্স-মাস্টার্স।


মুক্তবাক :  সংবাদ উপস্থাপনাকে  ক্যারিয়ার হিসেবে নিলেন কবে?

জান্নাত সাথী : পারিবারিক কারণে একাধিকবার পেশা পরিবর্তন করতে হয়েছে। লেখাপড়া শেষে প্রথমে 'সিইজিআইএস' নামক এনজিওতে ছিলাম। সেসময় স্বামীর জব টাংগাইলে বদলীর কারণে কয়েকমাস ওখান থেকে জব কনটিনিউ করি। কিন্তু পরবর্তীতে একদিকে দূরত্ব অন্যদিকে আট মাস বয়সী ছোট কন্যাকে রেখে কর্মজীবন চালিয়ে  যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরের বছর ওই অফিসেরই শ্রদ্ধেয় বস শংকর সি সিং আবারও আমাকে কাজের সুযোগ দেন, কিন্তু দুঃখজনক হলো একই কারণে তা করতে পারিনি।  সেজন্য এখনও আফসোস হয়। তখনও ভাবিনি পরবর্তীতে আবারও রাজধানীতে ফিরে আমাকে জব খুজতে হবে। তখন ২০১২ সাল। ভাগ্যে তাই ঘটলো। আবারও স্বামীর বদলীর কারণে রাজধানীতে ফেরা। কন্যারা বড় হতে লাগলো, নিজেদের স্কুল নিয়ে ব্যস্ত।  হন্য হয়ে জব খুজতে লাগলাম। একদিন সাংবাদিক ফরিদ ভাই বললেন, ফেসবুকে তুমি চমৎকার লিখ, তুমি কেন এটাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছ না। সেই থেকেই শুরু। প্রথমে নতুন বার্তা অনলাইন, পরবর্তীতে চ্যানেল নাইনে মিডিয়া কর্মজীবনের চার বছর কেটে যায়।


মুক্তবাক : খবর পড়ার পাশাপাশি আপনি উদ্যোক্তাও। সাথী'স ডিজাইন কী ধরনের উদ্যোগ? নারী উদ্যক্তা হওয়ার পরিকল্পনা কিভাবে মাথায় এলো?

জান্নাত সাথী: দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ানোই আমার নেশা। সে সখ থেকেই 'ভ্রমিয়া সুখী' নামে গ্রুপও খুলি। বেশ সাড়া পাওয়ায় কয়েকটা ট্যুরও করেছি। আর অনলাইন বিজনেসে আসাটা হঠাৎ বৃষ্টির মতো। বলা যায়, শাড়ির প্রতি প্রেম আর ইনকাম সোর্স কিভাবে বাড়ানো যায় - এ ভাবনা থেকেই চাকরির পাশাপাশি 'সাথী'স ডিজাইন' অনলাইন ব্যবসার সাথে যুক্ত হই।

যদিও সংবাদ উপস্থাপনা আমার ফুলটাইম জব, তারপরও যেকোন কাজ ভালোভাবে করার দৃঢ়তা থেকেই বিজনেসকে পাকাপোক্ত করতে কাজ করে চলেছি। অল্প সময়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের যে সহযোগীতা আর ক্রেতাদের যে সাড়া পেয়েছি তা সত্যি চোখে জল আসার মতো আনন্দের।


মুক্তবাক : কোনটা চ্যালেঞ্জের? ব্যবসা নাকি খবর পড়া?

জান্নাত সাথী : আমার কাছে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই চ্যালেঞ্জের। আর অবশ্যই নিউজ প্রেজেন্টেশন আর বিজনেস - দুটোই দুই রকম চ্যালেঞ্জের। যে কোন পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে সুন্দর, শুদ্ধভাবে খবর পড়া সত্যি চ্যালেঞ্জের। আর প্রতিনিয়ত স্ক্রিনে পারফর্ম ধরে রাখাটাও চ্যালেঞ্জের। অপরদিকে ব্যবসায় সফলতা আরেক রকম চ্যালেঞ্জের। লাভের বিপরীতে লোকসানের ঝুঁকি নিয়ে ব্যবসা করা সহজ নয়।


মুক্তবাক : ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

জান্নাত সাথী: ভবিষ্যতে পরিকল্পনা অনেক। ব্যক্তিগত জীবনে সুস্থ, সুন্দর ও আনন্দে বেঁচে থাকা। আর প্রোফেশনাল লাইফে- প্রথমত ভালো পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা, দ্বিতীয়ত সাথী'স ডিজাইনকে দেশ-বিদেশে ব্র্যান্ড  হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, তৃতীয়ত ভ্রমনের 'ভ্রমিয়া সুখী' গ্রুপকেও প্রতিষ্ঠা করা। যদি কখনো সুযোগ হয়, 'ভবঘুরে কফি সপ' দেয়ার। আর মাতৃত্বের কারণে যে সব নারীরা ক্যারিয়ার থেকে পিছিয়ে পড়ে- তাদের জন্য কিছু করা।




 আরও খবর