www.muktobak.com

অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিপজ্জনক প্রবণতা


 আনিসুর রহমান এরশাদ    ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ৭:১৪    মতামত


বাংলাদেশের অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিয়ে অভিযোগ অনেক। একটি ল্যাপটপ একজন ব্যক্তি একটি নাম দিয়েই ভূঁইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল চলে বলে ঢালাও সমালোচনা করলে প্রাতিষ্ঠানিকতায় সমৃদ্ধ ও ভালো অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতি অবিচার হয়; যারা বার্তাকক্ষের অফিস-সাংবাদিকতা ও হাতিয়ার মোবাইল ফোন নিয়ে মাঠ-সাংবাদিকতার সমন্বয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক সংবাদটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। আজকাল যারা অনলাইন নিউজ পোর্টালের সমালোচনা করে মুখে ফেনা তুলেন তারাও অনলাইন নিউজ পোর্টালকেই সংবাদের প্রাথমিক সোর্স হিসেবে নিয়েছেন।

অনেক প্রিন্ট মিডিয়া যখন অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে তখন সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ভূঁইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো এক বিপজ্জনক প্রবণতার সৃষ্টি করেছে। অহরহ ভুল বানান ও ভুল তথ্য কোটি পাঠকের চোখের সামনে ছড়িয়ে দিচ্ছে। অনলাইন মিডিয়ার অতি বৃদ্ধি, স্বল্পসংখ্যক কর্মী দিয়েই চালানো, বার্তা কক্ষের সাংবাদিকতার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীলতার কারণে এসব পোর্টালগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। লাইক, রীচ আর অনলাইনে আয়ের পেছনে ছুটতে গিয়ে সাংবাদিকতা পেশার মান নষ্ট করছে।

একটি রিপোর্টিং টিম, একটি নিউজরুম টিম, বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগে কর্মী, জেলা প্রতিনিধি, উপজেলা সংবাদদাতা, ব্যুরো অফিস ও নিজস্ব প্রতিনিধি ছাড়া নিজস্ব কনটেন্ট তৈরি হয় কীভাবে! সাংবাদিকতায় কোনো শিক্ষা বা অভিজ্ঞতা নেই এমন লোকদের দ্বারা গঠিত টীম পাঠযোগ্য খবর দেবে কীভাবে আর পাঠক ধরে রাখবে কী করে! মূলধারার সাংবাধিকতার চর্চা অনলাইনে করতে চাইলে খরচ বাড়ে বলে অনেকে শর্টকার্ট পথ বেছে নেন। কাজের ধরন বদলাতে হতে পারে তাই বলে গুণমানের ব্যাপারে আপোস করলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হবে।

সংবাদ-ভোক্তার নতুন প্রাপ্তি অনলাইন মিডিয়া। এর পাঠক ও দর্শক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলেই কনটেন্ট প্রকাশে অনেক বেশি হিসেব-নিকেশ কষার প্রয়োজনীয়তা বেশি। সময়মতো টাটকা ও গরম-গরম সংবাদটি মানুষের সামনে তুলে ধরতে না পারলে অনলাইন মিডিয়ায় উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়। তাই সত্যিকার অর্থে যে অনলাইনগুলো মানের কাজ করতে পারবে বা করার সক্ষমতা রাখে সেসব সমর্থ অনলাইন পোর্টালকে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা এবং নামকাওয়াস্তে অনলাইন পোর্টালগুলোকে বন্ধ করে দেয়াই বেশি কল্যাণকর। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া যেনতেনভাবে ইচ্ছেমতো অনলাইন মিডিয়া চলতে পারে না।

তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ জানা যায় এমন উল্লেখ করার মতো মানের অনলাইন ডেইলি দশটিও হবে না। বিশ্লেষণী লেখা উপসম্পাদকীয়, নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সম্পাদকীয় ও বস্তুনিষ্ঠ-নির্ভরযোগ্য-নিরপেক্ষ বিশ্লেষণমূলক সংবাদ খুব কম পোর্টালেই দেখা যায়। এতে অনলাইনটির চরিত্র অস্পষ্ট থাকে এবং প্রকাশিত সংবাদে পাঠক বিভ্রান্তও হয়।

অনলাইন সাংবাদিকতা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। একপক্ষ বলেন- অনলাইন মিডিয়া বাংলাদেশে সাংবাদিকতাকে সমৃদ্ধ করেছে। অনলাইন সাংবাদিকতার ফলেই মানুষকে আর পরের দিনের সংবাদপত্র কিংবা টিভির সংবাদের জন্য বসে থাকতে হয় হয় না। আরেকপক্ষ বলেন- আইন করে অনলাইন মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ। যে যাই বলুক এটা স্বীকার করতেই হবে- সাংবাদিকদের পেশা ও জীবন জীবিকার নিরাপত্তা মানের কাজ হওয়ার পূর্বশর্ত।

বেশিরভাগ জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াও এখন অনলাইন সংস্করণ বের করছে। তার মানেই হচ্ছে- সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে সংবাদ পরিবেশনকারী অনলাইন মিডিয়ার প্রয়োজন আছে। অনলাইন মিডিয়া পৃথিবীর বাস্তবতা। অনেকে প্রতি ২-১ ঘণ্টা পর পর অনলাইনে ঢুকেন। পত্রিকা না পড়ে অনলাইনে আপডেট জেনে নেয়া নতুন প্রজন্মের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই সুযোগ ও সম্ভাবনাকে ধরে রাখতে ও সময়ের অনিবার্য দাবি পূরণ করতে হলে অনলাইন পোর্টালগুলোকে বিপজ্জনক প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।




 আরও খবর