www.muktobak.com

কুবিসাস : ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার এক অকুণ্ঠ আশ্রয়স্থল


 মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ    ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, ৫:৫৯    মতামত


আমার কাছে শুধু মাত্র একটা ভালোবাসারই নাম নয়, এর থেকেও অনেক বেশি কিছু। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস)। বলা চলে আজকের আমি হয়ে ওঠার এক অন্যান্য সিঁড়ি। এর অভিভাবকত্বে আমি ঠাঁই নিয়ে পথ চলতে শিখেছিলাম। আমি এর সন্তান আবার এ সংগঠনটিও আমার সন্তান। সত্য ও ন্যায়কে বুকে আগলে রেখে অবিরত পথ চলতে শিখেছিলাম এর ছায়া তলে এসে। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার এক অকুণ্ঠ আশ্রয়স্থল।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বোচ্চ এ বিদ্যাপীঠ’র (কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়) প্রতিটি সদস্যের আস্থার নাম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি বা কুবিসাস। ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর এ সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। যদিও এর আগে প্রায় চার বছর প্রিয় শিক্ষালয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম চলে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বেশ কণ্টকাকীর্ণ। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের কালো থাবা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিমাতা সুলভ আচরণের মধ্যেই ‘সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল’ এ মুলমন্ত্রকে ধারণ করে যাত্রা শুরু করে কুবিসাস।

এটা সত্য, প্রতিটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্র নায়করা চান যে, তাদের জাতি যেন নির্বোধ হয়। কেননা তাহলে অধিনস্তদের উপর নির্যাতনের খড়গ বেশ ভালোভাবেই চালানো যাবে। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকাকালে ক্ষমতাসীনদের কাছে সত্য যেন ‘বিষ’র মতো মনে হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে এ সংগঠনকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছে। এটা স্বাভাবিক বলে আমি মনে করি। সত্যকে ধারণ করার শক্তি সকলের থাকে না। দলীয় তোষামোদকারী প্রশাসন তো সত্যবাদীদের মুখ বন্ধ করতে চাইবেই। তবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা কোন বাধার সামনেই নত হননি, চলেছেন বীরের বেশে। সত্য তাদের প্রকাশ করতে হবেই। শিক্ষালয়ের সুষ্ঠু কার্যক্রম ব্যাহত হয় এমন বিষয়কে জাতির সামনে তুলে আনবেন-এমনই তাদের প্রত্যয়। তারা কাজ করে যাচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সংবাদ উপস্থাপন করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের পাশে দাঁড়িয়েছেন এর কর্মীরা। অপসংবাদের ভীরে কুবিসাস তার কর্মীদের সংবাদিকতার দিক্ষা দিয়ে পুরোদস্তুর সাংবাদিক তৈরী করছে।

২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি আমি দৈনিক ইত্তেফাক’র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক হিসেবে কাজ শুরু করি। এরপর ডেইলি নিউএইজ, এনটিভি’র হয়ে ক্যাম্পাসে কাজ করেছি। সাংবাদিক সমিতির ১ম কার্যনির্বাহী পরিষদ’র (২০১৪-২০১৫) অর্থ-সম্পাদক, ২য় কার্যনির্বাহী পরিষদ’র (২০১৬) সাধারণ সম্পাদক, ও ৩য় কার্যনির্বাহী পরিষদ’র (২০১৭) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। আমি এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, সম্মানিত এবং আজীবন সদস্য।
২০১৮ সালের ৮ মে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করি। তখন মনে হয়েছে, প্রিয় সন্তানটিকে (সংগঠন) দত্তক দিয়ে আসলাম। আমি চেষ্টা করেছি নিজের মেধা, শ্রম ও নিষ্ঠার শ্রেষ্ঠটুকু দিয়ে কাজ করার। এর জন্য আমি আমার সহর্মীদের (সাংবাদিক সমিতির) কাছে ঋণী কেননা তারা আমাকে সহযোগীতা করেছেন এবং আমাকে যথাযথ সম্মান দিয়েছেন। সাংবাদিক সমিতির জন্মলগ্ন থেকে লেগে আছি প্রিয় সংগঠনের সাথে। যে কয়জন শিক্ষার্থী সাংবাদিক তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন তাদের মধ্যে এ ক্ষুদ্র অধমের শ্রমের শক্তি মেশাতে পেরে আমি আনন্দিত। যেখানেই থাকি না কেন, যেভাবেই থাকি না কেন এ সংগঠনকে নিজের শীরের থেকেও উচ্চতর আসীনে আমি রাখব।

অধ্যয়নের পাশাপাশি সাংবাদিকতা করতে এসে এ শিক্ষালয়ে আমি অনেক কিছু দেখেছি, অপ্রিয় অনেক সত্য বলতে গিয়ে বারবার হিংস্রতার শিকার হয়েছি। দিন শেষে বুঝলাম, আমার স্থায়ী কোন শত্রু বা বন্ধু নেই। কেননা আমি একাধারে শুধু ভালোবাসা দিতে পারি নাই, অন্যায়ের জন্য লিখেছি। আমি সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তরের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লিখেছিলাম, ‘অনেকেই খুব খুশি হয়েছেন যে, আমি চলে যাচ্ছি। মনে রাখবেন, আমি চলে যাচ্ছি কিন্তু সেই সাথে অনেক শফিউল্লাহ-কে এখানে রেখে যাচ্ছি। যারা রক্তচক্ষুকে ভয় তো দূরের কথা কেয়ারই করবে না।’

আমি এ সংগঠনকে যতটুকু দিয়েছি তার থেকে পেয়েছি বেশি। এ সংগঠনে আমার আগে যারা এর নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা অসাধারণ নেতৃত্ব-গুনাবলির অধিকারী। যারা এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা আমার চেয়েও ভালো নেতৃত্বের অধিকারী। আমি তাদেরকে কাছ থেকে চিনি, তার নক্ষত্রের মত জ্বল জ্বল করছেন।
যাদের হাত ধরেই এ সংগঠন তার বিস্তার ঘটিয়েছে তারা অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। এর সকল কর্মী পুষ্প পল্লবের মতো সুন্দর্যের ছটা ছড়িয়ে যাচ্ছে, সূর্যের মতো আলোর বিচ্ছুরণে আলোকিত করছে সমাজকে।

আমি শুধু বিশ্বাসই করি না, আমি দেখতে পাচ্ছি এ সংগঠনের কর্মীরাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংবাদিকতার এক উর্দ্ধমূখি পথ বাতলে দেবেন। এ সময়টা আর বেশি দূরে নয়। ভাবতেই খুব ভালো লাগে নিজ সন্তানটি আজ ৬ষ্ঠ বছর শেষ করেছে। আগামীকাল ৭ম বছরে পদার্পন করবে এ সংগঠন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সকল শুভাকাঙ্ক্ষী ও এর সাথে জড়িত প্রতিটি মানুষকে আন্তরিক ভালোবাসা। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি'র ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকলকে অনেক শুভেচ্ছা।

ভালোবাসা অফুরন্ত, কৃতজ্ঞতা চিরন্তন এবং অভিভাবকত্ব শ্রেষ্ঠত্বের। জয়তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস)।

লেখক : মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ। নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশে টেলিভিশন এবং সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (কুবিসাস)। ই-মেইল: shafi9312@gmail.com




 আরও খবর