www.muktobak.com

অ্যারাউন্ড মি বিডি: নিভৃতচারী ইউটিউবারের সাফল্যের গল্প


 শরীফ বিশ্বাস    ১৩ মার্চ ২০২০, শুক্রবার, ১০:২০    দেশ


২০১৬ সালের জুন মাসে লিটন খান ও স্কুল শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন যৌথভাবে শুরু করেন ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ নামে ইউটিউব চ্যানেলের। যে চ্যানেলটি এতই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, সাবস্ক্রাইবার ২৪লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

এমনি এমননি আসেনি এই সফলতা। প্রবল ইচ্ছে শক্তিই এনে দিয়েছে তাদের এই ইউটিউব চ্যানেলের কাঙ্খিত অগ্রযাত্রা। এব্যাপারে চ্যানেলটির উদ্যোক্তারা জানান শুরুর গল্প। বছর চারেক আগে রাজধানী ঢাকায় বসে ভাগ্নে লিটনের সাথে কথা হয় দেলোয়ারের। কুষ্টিয়ার নিজ গ্রামে বসে গ্রামীণ সব কৃষ্টি কালচার ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে তুলে ধরা যায় কিনা তা নিয়ে আলোচনা হয় মামা-ভাগ্নের। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে দেলোয়ার মাস্টার শুরু করেন সেই কার্যক্রম।

প্রথমত, গ্রামীণ সব রান্নাবান্না, শিশুদের নিয়ে গ্রামীণ পরিবেশে পিকনিকের আয়োজন, খালে বিলে মাছ ধরার দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে তুলে ধরা হয় ‘অ্যারাউন্ড মি বিডি’ ইউটিউব চ্যানেলে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওইসব ভিডিও চিত্রধারণ করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হতো মেমরি কার্ডের মাধ্যমে। সেখানে ভাগ্নে লিটনের সাহায্যে তা আপলোড করা হত ইউটিউব চ্যানেলে।

আসতে থাকে কাঙ্খিত সাফল্য। বাড়তে থাকে পরিধি। তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ায় অল্প সময়েই সিলভার বাটনের পর দ্রুতই চ্যানেলটি স্বীকৃতি পায় গোল্ডেন বাটনেরও । এখন লক্ষ্য ডায়মন্ড বাটন প্রাপ্তি। যদিও মোবাইল ফোনের পরিবর্তে বর্তমানে কেনা হয়েছে কয়েকটি ক্যামেরা। কোন প্রশিক্ষণ নয়, কয়েকজন শিক্ষিত বেকার যুবক আপন মনে ওইসব ভিডিওচিত্র ক্যামেরায় ধারণ করে তা আপলোড করেন চ্যানেলে। ওইসব অদক্ষ ক্যামেরাম্যানের তোলা ভিডিও চিত্র যখন ইউটিউব চ্যানেলে ভাইরাল হয় তখন তাদের অনুভূতিও দারুন।

দেলোয়ার মাস্টার জানান, চ্যানেল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় হয়। এটি আবার ভাগ হয়ে যায় এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০জনের মধ্যে। বড় অংকের ব্যয় হয় কখনো মাছ, কখনো মাংস কিংবা কখনো পিঠাপুলির আয়োজনে।

দেলোয়ার রহমান আরো জানান, অর্থ উপার্জন মুখ্য নয়, যখন চ্যানেলটির মাধ্যমে কুষ্টিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষ্টি কালচার বহির্বিশে^র মানুষ উপভোগ করছে তখন যেন নিজেকে ধন্য মনে হয়।

এ্যারাউন্ড মি বিডি ইউটিউব চ্যানেলে শুধু গ্রামীণ কৃষ্টি কালচার, খাওয়া দাওয়াই তুলে ধরা হয়না দেশের জাতীয় দিবসের আয়োজনও তুলে ধরা হয় এই চ্যানেলের মাধ্যমে।

দেলোয়ার রহমানের এই চ্যানেলটি সর্বোচ্চ স্বীকৃতির দ্বার প্রান্তে থাকলেও দেশ ও সমাজকে কিছু দেয়াই চ্যানেলটির লক্ষ্য। শুধু অ্যারাউন্ড মি বিডি ইউটিউব চ্যানেলই নয়, শিমুলিয়ার অনেক যুবকই এখন ইউটিউব চ্যানেল খুলে বাড়তি আয়ের উৎস খুঁজে পেয়েছেন।




 আরও খবর