www.muktobak.com

অনলাইন সাম্রাজ্যবাদ, সংবাদ ও সামাজিক মাধ্যমের দ্বন্দ্ব


 মাহমুদ মেনন খান    ১২ আগস্ট ২০২০, বুধবার, ১১:৫৭    মতামত


একটা সময় ছিল যখন সাম্রাজ্য ও সাম্রাজ্যবাদ ছড়িয়ে ছিল বিশ্বের নানান প্রান্তে। ব্রিটিশ, রুশ, অটোমান, পারস্য, রােমান, গ্রিক, অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান, মােগল-পাঠান সাম্রাজ্যসহ আরাে কত না সাম্রাজ্য কায়েম ছিল দুনিয়াজুড়ে! শতাব্দির পর শতাব্দি জুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর তারা ছড়ি ঘুরিয়েছে। গােটা দুনিয়া ছিল এই কটি সাম্রাজ্যের পদানত। কিন্তু আজ সেদিন গত হয়েছে। কেউ কারাে অধীনস্ত হয়ে নেই।

সাম্রাজ্যবাদ ও এ নিয়ে যুদ্ধবাজি নেই। কিন্তু তাই বলে সবকিছু কি চুকেবুকে গেছে?
না, তা হয়নি মােটেই; আজও জারি আছে সাম্রাজ্যবাদ। এখন মাথা চাড়া দিয়েছে অন্য এক সাম্রাজ্যবাদ, নাম বিম্বিত (ভার্চুয়াল) সাম্রাজ্যবাদ, যার কজায় আজ চলে গেছে গােটা দুনিয়া।

অ্যারিস্টটল বলেছিলেন, প্রকৃতি কোনাে শূন্যতা সহ্য করে না। এর মানে, সাম্রাজ্যবাদেও শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি। অবসানও হয়নি এর; পুরনাে সাম্রাজ্যের জায়গায় আজ চোখ রাঙাচ্ছে নতুন এক সাম্রাজ্যবাদ; টেলিকম, ইন্টারনেট, মিডিয়া - বিশেষত ইলেকট্রনিক মিডিয়া - পুরনাে সাম্রাজ্যবাদের স্থান দখল করে নিয়েছে ও নিচ্ছে। দিনে দিনে নতুন সেই অনলাইন সাম্রাজ্যের মােগল-পাঠানদের চেহারা-অবয়বও স্পষ্ট হচ্ছে। তাতে এক যুদ্ধবাজ চেহারাও স্পষ্ট হচ্ছে দিনে দিনে।

রেডিফ.কম-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অজিত বালাকৃষ্ণান (২০১৪) তার দ্য গ্রেট ওয়ার, অনলাইন১ শিরােনামের এক নিবন্ধে এই নতুন সাম্রাজ্যবাদ ও এর কারণে ক্রমশ ঘনিয়ে আসা নতুন এক অনলাইন মহারণের অশনিসংকেতের কথা বলেছেন, যে মহারণকে তিনি গত শতাব্দির প্রথম মহাযুদ্ধের সাথেই তুলনা করেছেন। তিনি কথা বলছিলেন ভারতের প্রধানতম টেলকো এয়ারটেলের নেওয়া একটি সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে। ১৩২ কোটি মানুষের দেশের টেলকো জায়ান্ট আবিষ্কার করলাে লােকে এখন টেলিফোনে কথা বলে কম। স্কাইপেতে তারা সেরে নিচ্ছে দেশ-বিদেশের বাতচিত। ইন্টারনেটে সামান্য খরচ দিয়ে বাঁচিয়ে ফেলছে টেলিআলাপের খরচ। ব্যবসায় ঘা লাগলে এয়ারটেলতাে ক্ষেপবেই। মুনাফাখেকো টেলকো বের করে ফেললাে আয়ের পথ। ঘােষণা দিলাে যারা ইন্টারনেটে যারা স্কাইপে বা সে ধরনের সার্ভিস ব্যবহার করে কথা বলবে তাদের ওপর বেশি হারে শুল্কারােপ করা হবে।

বালাকৃষ্ণান (২০১৪) বলেন, স্কাইপে বা স্কাইপের মতাে সেবায় যারা কথা বলে তাদের ওপর উচ্চ শুল্ক বসানাের সিদ্ধান্তটি ছিল ১০০ বছর আগের এক ঘটনার মতােই, যখন একজন তরুণ সার্বিয়ান জাতীয়তাবাদী অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সাম্রাজোের সিংহাসনের উত্তরাধিকারীকে হত্যা করে বিদ্যমান ইউরােপীয় রাষ্ট্রব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেন। বালাকৃষ্ণান মােটেই বাড়িয়ে বলেননি। টেলিকম, ইন্টারনেট এবং মিডিয়া কারখানা এমনভাবে সংগঠিত হচ্ছে যার সাথে ১৯১৪ সালে মহাযুদ্ধকালে ইউরােপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলাের একজোট হওয়ার সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ওই সময়কার পরাশক্তি বলতে ছিল ব্রিটেন, রাশিয়া ও ফ্রান্স। আর এখন সে-স্থান দখলে নিয়ে নতুন পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফট। আর এদের হাতে যেসব অস্ত্র তারাে আছে নানা নাম হােয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, স্কাইপে। অতীতে পরাশক্তিগুলাে যেমন প্রতিটি দেশকে অধীন ও পদানত করে রেখেছিল, ঠিক তেমনি এখন সারা দুনিয়াকে শাসন করছে এই অনলাইন দানবেরা। বলে রাখা ভালাে যে এক্ষেত্র চীন এখনাে ব্যতিক্রমের তালিকায়। চীনের ওপরই কেবল ছড়ি ঘােরাতে পারছে না এই নব্য সাম্রাজ্যবাদীরা। অনলাইনের, বিশেষ করে সামাজিক যােগাযােগের গড্ডালিকায় চীন একটু কমই ভাসছে।

যাই হােক এই সব অস্ত্রে চলছে দুনিয়া দখলের ধুন্ধুমার লড়াই। ফেসবুকের আছে হােয়াটসঅ্যাপ আর মাইক্রোসফটের মালিকানায় আছে স্কাইপে। এই দুটি অনলাইন সেবাই এখন 'নেট নিরপেক্ষতার লড়াই নামের নতুন এই মহারণের কেন্দ্রবিন্দু । বিষয়টি আরেকটু খােলাসা করার দাবি রাখে। এই মহারণের দামামা কিন্তু এক যুগ ধরেই বাজছে। তবে বছর ছয়েক আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশন্স কমিশন (এফসিসি) যখন নেট নিরপেক্ষতার বিধি বাস্তবায়ন করে বলে দিল ভােক্তার জন্য ইন্টারনেট বিনামূল্যে উন্মুক্ত ব্যবহারের সুযােগ থাকবে তখন কিন্তু ক্ষোভে ক্রোধে চুল খাড়া হয়ে গেল এই সব অনলাইন দানবদের। কারণ এই বিধান এও বলে দিল ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী সংস্থার কারাে হাতেই স্পিড কমানাে বাড়ানাের চাবি থাকবে না, কিংবা চাবি ব্যবহারের সুযােগটি থাকবে না, সে ব্রাউজার যে কনটেন্টই ব্রাউজ করুক, কিংবা ইন্টারনেটের যে সুবিধাই ব্যবহার করুক না কেন।

এটা মােটেই মানতে রাজি নয় অনলাইন জগতের দানবরা। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে বেশ বড়সড় প্রতিবাদ হলাে। তাতে আর ফেসবুক, মাইক্রোসফট একা নয়, যােগ দেয় গুগল, নেটফ্লিক্স, টুইটারসহ বিশ্বের ৮০ হাজারের বেশি প্রধান সারির ওয়েবসাইট। নেট নিরপেক্ষতা তারা মানে না। এরপর সে আন্দোলন চলেছে দীর্ঘ পাঁচ বছর। ততক্ষণে মহাসাগরগুলাের পানি গড়িয়েছে অনেক দূর। কিন্তু সে রণ কি আজও শেষ হয়েছে? হয়নি। মাঝে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর এফসিসি তাে নেট নিরপেক্ষতা বাতিল করতে ভােট দিল।

প্রাথমিকভাবে মনেও হলাে মুক্ত-স্বাধীন ইন্টারনেটের যুগ বুঝি এবার শেষ হতে চললাে। পণ্ডিত-বিশ্লেষকরা সেদিন অবশ্য বারবারই সতর্ক করে দিচ্ছিলেন বড় বড় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রােভাইডারদের। বলেছিলেন, আধেয় সরবরাহ আর ব্যবহারকারীদের ওপর এই যে ইন্টারনেট দানবদের নিয়ন্ত্রণ, তা কিন্তু মুক্তবাকের চর্চাকেই কেবল বাধাগ্রস্ত করবে না, এর মধ্য দিয়ে ইন্টারনেট নিজেই বিপাকে পড়বে।
সেই তাে হচ্ছে। ২০১৯ সালে এসে আমরা তাে নেট নিরপেক্ষতার সেই আন্দোলনকে আবারও চাঙ্গা হতেই দেখছি। দেখছি নতুন নতুন পদক্ষেপও। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি রাজ্য ও কলাম্বিয়া ডিস্ট্রিক্ট একাট্টা হয়ে এফসিসির সেই বাতিলকরণ প্রক্রিয়াকেই
চ্যালেঞ্জ করে বসেছে, রীতিমতাে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে মামলা ঠুকে দিয়ে এতে মজিলার মতাে বৃহৎ ইন্টারনেট স্পন্সররাও সামিল হয়েছে। আর খুবই আশা করা হচ্ছে আদালত এই বাতিল প্রক্রিয়াটিকেই বাতিল করে দেবে।

দূরদেশ আর দূরের উদাহরণে কেন যাচ্ছি, বাংলাদেশে তনু হত্যার কথা অকপটের স্বীকার করে নিতে হবে, সামাজিক মাধ্যমেই এই ঘটনা প্রথম আসে। মূল ধারার মিডিয়াতে তা গুরুত্ব পায় অনেক পরে। একথা বললেও বেশি বলা হবে না, অনেকটা সামাজিক মাধ্যমের চাপেই মূলধারার মাধ্যমগুলাে এই খবরের দিকে ঝোকে।
তিউনেশিয়া, মিশর, ইরান ও সিরিয়া জুড়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরব বসন্ত সাফল্যের পেছনে সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা দুনিয়াজুড়ে স্বীকৃত। আর ২০১৩ সালে বাংলাদেশে 'গণজাগরণ' নামে যে বিরাট আন্দোলন হয়ে গেছে তারও প্রাথমিক ডাক দেওয়া হয়েছিলাে সামাজিক মাধ্যমে।

তাহলে সেই এজেন্ডা সেটিংয়ের কথাই আসে। একটা সময় সনাতনী মিডিয়াকেই সমাজের মূল আলােচ্যসূচি নির্ধারক হিসেবে বিবেচনা করা হতাে। মিডিয়া যা তুলে আনতাে তা দিয়েই সমাজ পাল্টাতাে কিংবা পট পরিবর্তন হতাে। সেটা খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। ২০১২ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টার নামের একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণা সংস্থা স্টেট অব নিউজ মিডিয়া শিরােনামের রিপাের্ট প্রকাশ করে। তাতে দেখানাে হয়, টেলিভিশনই খবর পরিবেশনায় রাজত্ব করে চলেছে। তখনও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা এই বিম্বিত (ভার্চুয়াল) জগতে খবরের সন্ধান কম করতেন। আর যদি করতেনও, তা 'কি ওয়ার্ড সার্চ করে কিংবা 'নিউজ এগ্রেগেশন সাইটগুলােতে টু মেরে। নিউজ সাইটে সরাসরি ব্রাউজিং তাদের অভ্যাস হয়ে ওঠেনি তখনও। আর ফেসবুক টুইটারও তাদের জন্য খবর পাওয়ার জায়গা ছিলাে না।

কিন্তু এর মাত্র এক বছর পর ২০১৩ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টার গবেষণা করে দেখলাে পাল্টে গেছে অনেক কিছু। দেখা গেল সনাতনী সংবাদমাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে বড় ধরনের অনীহা। খবর পড়তে, দেখতে কিংবা শুনতে তাদের সংবাদপত্র, টেলিভিশন কিংবা
রেডিওর প্রতি ঝোঁক নেই। অনলাইনেই তারা খবর জানছেন। ব্রেকিং নিউজ হিসেবে যখনকার ঘটনা তখনই তাদের হাতে ধরা দিচ্ছে। ফলে ওই সব সনাতনী মিডিয়াতে নেমে আসলাে খরা। সঙ্গে খাড়াও নামলাে। শুরু হলো ব্যাপক ছাঁটাই। ফলে যা হবার তাই হলাে। এই সংবাদমাধ্যমগুলাে তাদের সংবাদের সংখ্যা ও মান উভয় বিবেচনাতেই পিছিয়ে পড়তে লাগলাে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওই গবেষণা সংস্থাটি বলেছে, তারা জরিপে দেখেছেন প্রতি তিন জন আমেরিকানের মধ্যে একজন তাদের প্রয়ােজনের খবরগুলাে এসব মিডিয়াতে পাচ্ছেন না বলেই বর্জন করেছেন। সুযােগটা নিতে পারতাে মূল ধারার অনলাইন মিডিয়া, কিন্তু পারেনি। ব্রেকিং নিউজ, বেশি বেশি নিউজ আইটেম, বিষয়বৈচিত্র্য দিয়ে সে সুযােগকে প্রসারিত ও আর দৃঢ় অবস্থানে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু করতে না করতেই সামাজিক মাধ্যম থেকে একটা চাপ আসতে শুরু করে।

খবরের বিবেচনায় সামাজিক মাধ্যমের ভিতটি কিন্তু মৌলিকত্বহীন আর পরজীবী। এর নিজের কিছু নেই। মূলধারার সংবাদমাধ্যম থেকে
তুলে এনে নিজের নেটওয়ার্কে ছড়ানোই প্রধান কাজ। এখনাে যে সে চরিত্রের বাইরে তা নয়। কারণ সারাদিন যত খবর প্রকাশিত ও প্রচার হয় তার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভাগই। সামাজিক মাধ্যম প্রথম সামনে এনেছে কিংবা আনে। মূল কাজটি মূল ধারার সংবাদমাধ্যই করে। তবে জনপ্রিয়তার বিবেচনায় যেকোনাে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের চেয়ে এখন এগিয়ে এসব সামাজিক মাধ্যম। বাংলাদেশেও অবধারিতভাবেই তাই।

বিবেচনার ও উদ্বেগের বিষয়টিও সেখানেই। আরও একটি উদ্বেগ হচ্ছে সামাজিক মিডিয়ায় এর সংখ্যা বাড়ছে বৈ কমছে না।
এখানে বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে ইস্যু গ্রহণ। মূলধারার সংবাদমাধ্যমের চেয়ে সামাজিক সংবাদমাধ্যম যেকোনাে ইস্যুকে একটু দ্রুতই তুলে নিচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে তার দায়বদ্ধতা কম। মূলধারার দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাকে বুঝে শুনে এগুতে হয়। রয়টার্স ইন্সটিটউটের একটি তথ্য রয়েছে। এটিও গবেষণালব্ধ। ওরা বলছে, মূল ধারার সংবাদ মাধ্যম ইস্যু গ্রহণে সামাজিক মাধ্যমের চেয়ে পিছিয়ে।আবার ওদের চেয়ে আগেভাগেই সে ইস্যু ছেড়েও দেয়। হুমকিটাও সেখানেই।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে সামাজিক মাধ্যম তাদের নিজেদের এজেন্ডা সেট করে, আর তাই পরে মূলধারার সংবাদমাধ্যমের এজেন্ডা হয়ে ওঠে। কারণ একটাই ক্ৰমবর্ধমান হারে সামাজিক মাধ্যমের পােস্টগুলােকে খবরের উৎস হিসেবে নেওয়া ও তা থেকে খবর তৈরি করা। কেউ কেউতাে সামাজিক মাধ্যমকে অনেক খবরের 'সৃতিকাগার বলতেও ছাড়ছেন না। পক্ষান্তরে বরং সামাজিক মিডিয়াকে দেখা যায়,
তারা আর মূলধারার মিডিয়ার দিকে ঝুঁকছে না। বিশেষ করে স্থানীয় কোনাে বিষয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের আধেয় তৈরি করছে এবং তা পােস্ট দিচ্ছে। ব্লগারদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। তারা যেন সংবাদমাধ্যমকেই বরং কম বিশ্বাস করছে।

বাংলাদেশেও আমরা এমন ব্লগার দুই-চারজন দেখতে পাচ্ছি যারা নিজেরাই কোনাে বিশেষ ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ জেনে তবে ফেসবুকে পােস্ট দিচ্ছেন কিংবা নিজের ব্লগে লিখছেন। নিউজ পেগ হিসেবে সেগুলােই লুফে নিচ্ছে অনলাইন-অফলাইনের সংবাদমাধ্যমগুলো। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র এগুলাে নিয়েও গবেষণা হয়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণার কথা আগেই বলেছি। বলছেন কখনাে কখনাে মূলধারার সংবাদমাধ্যমে যা প্রকাশিত হচ্ছে তার থেকে ভিন্ন কথা ভিন্ন আঙ্গিক উঠে আসছে সামাজিক মাধ্যমে। এতে করে সামাজিক মাধ্যম যে জনবান্ধব আর উপকারী বন্ধু হয়ে উঠছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফেসবুকতাে তার ব্যবহারকারীদের যেমন বন্ধু সম্বােধন করছে তেমনি একজনের সঙ্গে অন্যজনের বন্ধুত্ব পাতিয়েও দিচ্ছে।

এরও একটা মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়েছে। ফেসবুকে যােগাযােগে প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়াচ্ছে। তবে সেটা আলােচ্য বিষয় নয়। আলােচ্য হচ্ছে এই বন্ধুত্ব তাদের মধ্যে তথ্য দেওয়া নেওয়া, কোনাে তথ্য বা খবরে তাদের মধ্যে ভাব বিনিময় আর তথ্য অমুখাবনেও তাদের মধ্যে সমমনা মনােভাব খুব সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তারা একই খবরে অনেকটা একইভাবে প্রভাবিত হচ্ছে। আর ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম হয়ে উঠছে তাদের প্রাণের সখা। সেখানেই দিনের শুরু সেখানেই রাতের শেষ। ফলে খবর খুঁজতে। আর তারা খবরের ওয়েবসাইটে যাচ্ছে না। সেখানেই পড়ে নিচ্ছে যা কিছু জানতে চায় তা।

লেখক : কো ফাউন্ডার এবং সম্পাদক, অপরাজেয় বাংলা ডটকম। লেখাটি যোগাযোগ এ প্রকাশিত।

 

 




 আরও খবর