www.muktobak.com

সংবাদ কর্মীর স্মৃতিতে ভয়াল ২১ আগস্ট


 মাসুদ করিম    ২১ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার, ১০:১৮    দেশ


আমি তখন রয়টার্সে খন্ডকালীন রিপোর্টারের কাজ করি । ব্যুরো চীফ আনিস ভাই ছুটিতে গ্রামের বাড়ি গেছেন । ভারত থেকে আসা কামিল জহির নামের একজন সাংবাদিক ঢাকা অফিসে ভারপ্রাপ্ত চীফের দায়িত্বে । সন্ধ্যায় আকস্মিক খবরটা টিভি স্ক্রলে এল । শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা বহু নিহত । ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের কথা বলছি । রয়টার্সের নিজস্ব চ্যানেলে সিঙ্গাপুর অফিস থেকে জিজ্ঞাসা করলো শেখ হাসিনা নিরাপদ কিনা ? কামিল আমাকে বললেন, এটা জানা যাবে কীভাবে ? কোনও উপায় না পেয়ে আমি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিলের মোবাইলে ফোন করলাম । সেই পরিস্থিতিতে মঞ্চে দাড়িয়ে ফোনটা ধরলেন জলিল ভাই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, শেখ হাসিনা সেফ আছেন কিনা ? তিনি বললেন, ‌আল্লাহ বাচাইছে কামিল সাথে সাথে স্ক্রল দিলেন, গ্রেনেড হামলা, বহু নিহত, শেখ হাসিনা সেফ। আবার জিজ্ঞাসা, শেখ হাসিনা কি হামলার টার্গেট ছিলেন ? আমার জবাব, শেখ হাসিনা টার্গেট ছিলেন । তার পাশে তার দেহরক্ষিসহ অনেক মানুষ মারা গেছেন। শেখ হাসিনা কানে সামান্য আঘাত পেলেও তিনি অল্পের জন্যে বেচে গেছেন। মৃতের সংখ্যা জানার প্রয়োজন হলো । নানা মাধ্যমে নানা সংখ্যা দেয়া হচ্ছে । রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান রফিক ভাই ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে মরদেহের সংখ্যা গুনলেন । আমরা রিপোর্টে লিখলাম, রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান রফিকুর রহমান এতটি লাশ গুনেছেন । সেই রাতে আমরা মানুষের কান্না আর আহাজারি নিয়ে অনেক মানবিক স্টোরি করলাম। কামিল হামলার জায়গাটি দেখতে চাইলেন। আমি তাকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ নিয়ে গেলাম। মৃত্যুপুরি ! রক্তের গড়াগড়ি । আমি আর কামিল হত-বিহ্বল, স্তম্ভিত।মানুষ কীভাবে এভাবে মানুষ হত্যার চিন্তা করতে পারে ! আজও যখন দেখি, পৃথিবীর নানা স্থানে নানা অজুহাতে নানা স্টাইলে মানুষ হত্যাযজ্ঞ চলে, তখন আমার ২১ আগস্টের দৃশ্য মনে পড়ে । আমি পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন মানুষকে শুভবুদ্ধি দেন । এমন মানবসৃষ্ট দুর্যোগ যেন আর দেখতে না হয় ! , ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০২০ লেখক : চিফ রিপোর্টার, দৈনিক যুগান্তর




 আরও খবর