www.muktobak.com

মানুষ সঠিক তথ্য পেলে অন্যায়ের প্রতিবাদে জোর পায়: সাবির মুস্তাফা


 কালের কণ্ঠ    ২৬ নভেম্বর ২০১৮, সোমবার, ৪:১৬    সাক্ষাৎকার


কালের কণ্ঠ : বর্তমান সময়ের আলোকে বিবিসি বাংলা বিভাগকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

সাবির মুস্তাফা : অনেকেই ১৯৭১ বা এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন বিবিসি বাংলার ভূমিকা টেনে বলেন, আপনারা আগের মতো নাই। কথা হচ্ছে, দেশও তো আগের মতো নাই। একাত্তরে সুস্পষ্ট বিভাজন ছিল : বাংলাদেশ একদিকে, পাকিস্তান ও তার সহযোগীরা অন্যদিকে। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়ও তো তা-ই ছিল। আমরা হরতালের খবর দিলে সরকার ভাবত বিবিসি ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু শ্রোতারা মনে করত, বিবিসি নিরপেক্ষ। ডেমোক্রেসি আসার ফলে এখন দেশে বিভিন্ন মতামত আছে- বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত। আবার নতুন নতুন ফোর্স তৈরি হচ্ছে; যেমন হেফাজতে ইসলাম। শ্রোতারাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিবিসিকে দেখছে। তার মানে কি আমরা বদলে গেছি? না। বরং শ্রোতাদের মধ্যে বিভাজন ঘটেছে।

কালের কণ্ঠ : জিহাদিজম বা জঙ্গিবাদের মতো সমস্যাগুলো বিবিসি কিভাবে দেখে? বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় দায়বদ্ধতাটা কেমন?

সাবির মুস্তাফা : আমরা অবশ্যই বাকস্বাধীনতা, মুক্তচিন্তার পক্ষে। এটি ব্যাহত হলে গোটা সমাজ, এমনকি মিডিয়াও ত্রাসের মুখে পড়বে। মাহমুদুর রহমান হোক বা অভিজিৎ রায় বা অন্য কেউ- লেখালেখির জন্য কারো ওপরই আঘাত আসতে পারে না। আর আইন তো আছে। লেখালেখির মাধ্যমে আইনের লঙ্ঘন হলে বিচার করুন। বিচার না করে জেলে পুরে রাখা ঠিক না। হত্যাকাণ্ডের তো প্রশ্নই আসে না। আর সমস্যা মোকাবিলার কথা যদি বলি, মিডিয়া হিসেবে বিবিসি কোনো ক্যাম্পেইনে থাকতে পারে না, অনেক মিডিয়াই তা করে। কেন ঘটছে, ঘটনাপ্রবাহের গতি-প্রকৃতি কী- এসব ব্যাপারে আমরা বস্তুনিষ্ঠভাবে রিপোর্টিং করে অডিয়েন্সকে প্ল্যাটফর্ম দেব, যাতে তারা তাদের দাবিগুলো তুলতে পারে। এর আউটকাম কী হবে বাংলাদেশের অথরিটি বুঝবে। আর সঠিক তথ্য জ্ঞাত হলে কেবল পাবলিকই পারে অথরিটির ওপর চাপ প্রয়োগ করতে।

কালের কণ্ঠ : বিবিসির মতো গণমাধ্যমের সঙ্গে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকতার মানে তফাতটা কেমন?

সাবির মুস্তাফা : বাংলাদেশি গণমাধ্যমগুলো আদালত অবমাননা বা মানহানির মতো বিষয়গুলোতে আইনি বিষয়গুলো নিয়ে বেশি অবগত না; অথবা তারা মনে করে না, এগুলো অবশ্যপালনীয়। এখানে একটা বদভ্যাস হচ্ছে, মিডিয়া ট্রায়াল করে ফেলা। গলায় ঝুলিয়ে দিয়ে বলা হচ্ছে খুনি, ঘাতক। অথচ ব্যক্তিটিকে ধরা হয়েছে সন্দেহভাজন হিসেবে। বিচারে দোষী সাব্যস্ত তখনো হয়নি। এমন অনেক কিছু এখানে পরিবেশিত হয়, আমরা দেখে বলি, ব্রিটেনে হলে তো মামলা হয়ে যেত। কিন্তু বিবিসি আইনি ব্যাপারে চরমভাবে তটস্থ থাকে। প্রতি মুহূর্তে মাথায় রাখতে হয়, কারো মানহানি বা আদালত অবমাননা হচ্ছে কি না। নিজস্ব নীতিমালা, সেই সঙ্গে স্থানীয় আইন ও ব্রিটিশ আইন- সবই মাথায় রাখতে হয়।

কালের কণ্ঠ : আমাদের অনেক টিভি চ্যানেল, আরো আসছে। সাংবাদিকতার মান কি সে তুলনায় বাড়ছে?

সাবির মুস্তাফা : টেকনিক্যাল মান বাড়ছে চ্যানেল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। বিনিয়োগও বাড়াতে হচ্ছে। আউটপুটের মানও বর্তমান। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এখানে অনেক চ্যানেল; কিন্তু সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো মান নিয়ে কেউ আসছে না। এটিএন বাংলা, চ্যানেল আই, এনটিভি এগিয়ে আছে। হতে পারে সবার অনুষ্ঠান, যেমন টক শো, নিউজ বুলেটিন- সব একই ধরনের হয়ে যাচ্ছে। কোনো একটা চ্যানেল বা প্রোগ্রাম ডমিনেট করতে পারছে না। দর্শকরা বলে থাকেন, আমরা তো রিমোট ঘোরাই; কিন্তু কোনো চ্যানেলে স্থির থাকতে পারি না। বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞাপন।

কালের কণ্ঠ : ষোলো বছরে বিবিসি বাংলা বিভাগের পরিবর্তনটা আপনার চোখে কেমন?

সাবির মুস্তাফা : অনেক, অনেক। এর নানা কারণও আছে। একসময় বিবিসির ভাষা বিভাগগুলো অনুবাদভিত্তিক ছিল। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি এই ধারা বদলাতে থাকে। জোর দেওয়া হয় ভাষা বিভাগগুলোর নিজস্ব সাংবাদিকতার ওপর। শুরু হয় বিভাগওয়ারি সাংবাদিক নিয়োগ। তার আগ পর্যন্ত সাহিত্যিক, লেখকরাই মূলত কাজ করতেন। আমি জয়েন করলাম কেন! আমি তো কবি বা সাহিত্যিক না। পরিবর্তনের ফলে সাংবাদিকতার মানও কিন্তু বেড়ে গেছে।

আগে বিবিসি বাংলা ছিল এখানকার শ্রোতাদের নির্ভরযোগ্য খবরের জন্য সবে ধন নীলমণি। আমি যখন বিবিসিতে গেলাম, তার পর থেকে তো বাংলাদেশে মিডিয়ায় বিপ্লব শুরু হয়েছে। এখন আর মানুষকে খবরের জন্য বিবিসির আশায় থাকতে হয় না। কোনো না কোনো চ্যানেল খবরটি দিয়ে দিচ্ছে। এটা আমাদের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে আসে এবং আমাদের মান ধরে রেখে তা মোকাবিলাও করে গেছি। একই সঙ্গে প্রযুক্তির বিকাশের কারণে যে পরিবর্তনটা আসবে, তার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো একটা ব্যাপার। এখন মূল মিডিয়া টেলিভিশন। ভবিষ্যৎ মিডিয়া অনলাইন। কিন্তু রেডিও আমাদের খুব স্ট্রং। এরই মধ্যে শর্টওয়েভ শ্রোতা যখন কমতে শুরু করল, আমরা এফএম-এ গেলাম বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে। এখন দশটা শহরে আমাদের বেতার শোনা যায়। ফলে শ্রোতা ভালোই আছে। কিন্তু ভবিষ্যতের দিকেও তো চোখ রাখতে হবে। তাই ডিজিটালের দিকে মনোযোগ দিতে হচ্ছে।

কালের কণ্ঠ : কিভাবে?

সাবির মুস্তাফা : কিছু কম্প্রোমাইজ আমরা করেছি। সকালে ঢাকায় একজন রিপোর্টারকে এবং লন্ডনে একজন প্রডিউসারকে ওয়েবসাইটের কাজে নিয়ে এসেছি। সুতরাং বেতারের জনবল খানিকটা কমানো হলেও আউটপুট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, আধঘণ্টার অনুষ্ঠানগুলো অপরিবর্তিতই আছে। তবে অনলাইন আউটপুট অনেক অনেক বেড়ে গেছে। ফেসবুকে তো আমরা সব ভাষা বিভাগের মধ্যে এক নম্বরে- ৫২ লাখেরও বেশি।

কালের কণ্ঠ : কিন্তু অ্যালেক্সা রেটিং তো মাত্র ৩৭!

সাবির মুস্তাফা : সেটা ওয়েবসাইট। অনলাইনের দিক থেকে আমরা ধীরেই এগোচ্ছি।

কালের কণ্ঠ : বিবিসি বাংলা তো প্রবাহ অনুষ্ঠান নিয়ে টিভিতে এসেছে। বেতারই আপনাদের ঐতিহ্য। টেলিভিশন সাংবাদিকতায় কেন? অনুষ্ঠানটি কী ধরনের?

সাবির মুস্তাফা : হ্যাঁ। আসলে ডিজিটাল হচ্ছে ফিউচার। আর টেলিভিশন হচ্ছে মূল গণমাধ্যম। এ ছাড়া বাংলাদেশে টিভি এখন শক্তিশালী গণমাধ্যম। রেডিওর শ্রোতার তুলনায় টিভি দর্শকের সংখ্যা তিন-চার গুণ বেশি। বিবিসি শোনে না বিশেষ করে এমন দর্শক-শ্রোতাদের কথা আমরা বিবেচনা করছি। বিবিসির হারিয়ে যাওয়া শ্রোতাদেরও আমরা ফিরে পেতে চাই। 'রিপোর্টিং, সাক্ষাৎকার, আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহে আলোকপাত থাকছে প্রবাহে। দর্শকদেরও অংশগ্রহণ থাকবে, তবে টেলিফোন করে নয়। প্রতি সপ্তাহে থিম দেব দর্শকদের। তার ওপর দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে ছবি বা ভিডিও আহ্বান করব। অনুষ্ঠান শেষ করব এসব ছবি দিয়ে। এ ছাড়া প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে ফেসবুকে ও বেতারে জানিয়ে দেব আজ মূল স্টোরি হবে, এ বিষয়ে আপনারা মতামত জানান ফেসবুকে ও টুইটারে। সেখান থেকে বাছাই করে চার-পাঁচটা মন্তব্য মূল অনুষ্ঠানে দর্শকদের জন্য পরিবেশন করব। টেলিফোন নিচ্ছি না। কারণ এটা অনেকেই করে, পুরনো হয়ে গেছে। এককথায় এটা কোনো টক শো বা গতানুগতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে না। ছয়জনের নতুন জনবল নিয়ে দল গড়া হয়েছে। প্রেজেন্টার শারমিন রমা আমাদেরই পুরনো সহকর্মী, রেডিও-অনলাইনে ছিলেন। অন্যরা বিভিন্ন চ্যানেল থেকে এসে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মনোয়ার দর্পণ, আবুল কালাম আজাদ, সেলিম মিয়া প্রমুখ। আমরা এমনভাবে সব কিছু সাজিয়েছি, যাতে সপ্তাহে দু-তিন দিনের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানটিকে একটা সময় দৈনিক সম্প্রচারে নিয়ে আসা যায়।

কালের কণ্ঠ : বিবিসি বাংলার রাজনীতি, বিশেষ করে সম্বোধনের বেলায় শ্রোতাদের অনেক সময় অস্বস্তিতে ফেলে। বিবিসির টিভি প্রোগ্রাম প্রবাহতে কি এটা বদলাবে।

সাবির মুস্তাফা : না, আমরা আমাদের স্টাইল মেইনটেইন করব। বিবিসির আউটপুট যে ভিন্নতর, তাকে এই স্টাইলই সহায়তা করে। এখানে এমনও দেখছি, উপস্থাপক একজন অতিথিকে তুই বলছে, কারণ বাস্তবজীবনে তারা বন্ধু। আমার এমন অবকাশই নেই। আসলে শুরুতেই বাংলা বিভাগ দ্বিধায় পড়ে, জনাব বলব না, শ্রী। কারণ দুই বাংলায়ই আমাদের শ্রোতা আছেন। সমাধান হলো, মিস্টার বা মিসেস দিয়ে। বাংলাদেশে আরেক সমস্যা হচ্ছে, অনেকের শেষ নামটা ডাকনাম। আমরা অনুষ্ঠানে সে নামে ডাকতে পারি না। তারপর সমস্যা হচ্ছে, মূল নামটা ফ্যামিলি নাম হওয়া। যেমন আবদুর রহমান সবুজ হলে আমরা মি. সবুজ বা মি. আবদুর ডাকতে পারি না। মি. রহমানই বলতে হয়। প্রথমবার যদিও পুরোটাই সম্বোধন করি। আমি তো কাউকে মি. খোকা ডাকতে পারি না।

কালের কণ্ঠ : সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে এখানে বাংলাদেশে বিবিসি বাংলাকে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়?

সাবির মুস্তাফা : সংবাদ সংগ্রহ বা অ্যাকসেস পাওয়ার ক্ষেত্রে বিবিসি সে রকম প্রতিবন্ধকতায় পড়ে না, সেটা সাধারণ কোনো মিডিয়াকে হয়তো মোকাবিলা করতে হয়। তবে রেডিও-টিভির বড় বাধাটা হচ্ছে ভয়েস, আইডেনটিটি বা প্রপারলি কোটেড করতে হয়। পত্রিকায় তো ফোনে গল্প করে একটি সূত্র জানায় বলে স্টোরি লিখে দিলেই সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক খুশি। রিপোর্টার যদি অনন্যোপায় হয়ে বলে, তখন কখনো কখনো আমরা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র গ্রহণ করি। তবে এটি রেয়ার। আর জনস্বার্থে খুব, খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্টোরি বলে আমরা বিবিসির সেন্ট্রাল এডিটরিয়াল বডির অনুমতি সাপেক্ষে তা গ্রহণ করি। যেমন- গোপনে ভিডিও ধারণ এখানে অহরহ হয়। কিন্তু আমরা অতি গুরুত্বপূর্ণ হলে এবং বিবিসি কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে তবেই তা করতে পারব।

কালের কণ্ঠ : আপনারা তো ব্রিটেনের জনগণের অর্থে সাংবাদিকতা করছেন। ব্রিটেন কোন স্বার্থে বা উদ্দেশ্যে আছে এর পেছনে?

সাবির মুস্তাফা : বিবিসি ওয়ার্ল্ড টিভি তো কমার্শিয়াল হয়ে গেছে, বিজ্ঞাপন নেয়। বেতার বা ডমেস্টিক চ্যানেল জনগণের অর্থে চলে। শুরুতে উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন- তারা বলত, ইমপেরিয়াল সার্ভিস। যেখানে উপনিবেশ ছিল, সেখানকার ব্রিটিশদের জন্য অনুষ্ঠান প্রচার হতো, পরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীও আওতায় এলো। ১৯৪১ সালে কী তাদের মাথায় ছিল জানি না, কিছু প্রোপাগান্ডার উদ্দেশ্য থাকতেও পারে। তবে এখন ব্রিটেন বিশ্বজোড়া নিজেদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতেই তথ্যসেবা দিচ্ছে। নিরপেক্ষতার কথা যদি বলি, আমি বাংলা বিভাগের প্রধান ১৪ বছর ধরে। আমাকে একবারও এসে বলা হয়নি- এটা দাও, ওটা ধরে রাখো। রাজপরিবারের স্টোরি আমরা দিই; এটা নিয়ে মানুষের আগ্রহও ব্যাপক। তাই এটা প্রোপাগান্ডার পর্যায়ে পড়ে না। ১০-১৫ বছর আগে ব্রিটেন নিয়ে সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান হতো, সেটাও বাদ দেওয়া হলো। আমার অডিয়েন্ট সন্তুষ্ট কি না এ নিয়ে বরং তাদের মাথাব্যথা। বাংলা বিভাগ বলে নয়, সব ভাষার ক্ষেত্রেই বিবিসির নীতি অভিন্ন।

কালের কণ্ঠ : সাংবাদিকতায় কেন এলেন, কিভাবে?

সাবির মুস্তাফা : বাবা কে জি মুস্তাফা সাংবাদিক ছিলেন। পত্রপত্রিকা, খবর, ঘটনা- এসবের মধ্য দিয়েই বড় হওয়া। ছোটবেলায়ই আমি জানতাম, সাংবাদিকই আমাকে হতে হবে। বাইরে গিয়ে ১৫ বছর পর যখন ফিরলাম, ব্রিটেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও রাজনীতি বিষয়ে পড়ালেখা করে সাংবাদিকতায়ই ঢুকলাম। আর লক্ষ্য ছিল জীবিকা অর্জন এমন একটা জিনিস দিয়ে, যেটাকে আমি নিছক কাজ হিসেবে দেখব না; বরং আনন্দ পাব।

এখানে ১১ বছর প্রিন্ট মিডিয়ায় ছিলাম, সবই ইংরেজি পত্রিকায়। এরপর ১৬ বছর ধরে বিবিসিতে। তবে পারসোনাল ডেভেলপমেন্ট আমার প্রচুর হয়েছে। আমি ডাইভারসিফাইড হয়েছি। যেমন সর্বশেষ নিজে উদ্যোক্তা হয়ে টেলিভিশনে বিবিসি বাংলার নিয়মিত অনুষ্ঠান বিবিসিপ্রবাহ শুরু করেছি। বিবিসির কাজ করতে গিয়ে আমার বহুবার মনে হয়েছে, আরে! দেশে আমি যা লিখেছি তার অনেকাংশই তো বস্তুনিষ্ঠ ছিল না। এই যে এখন আমি কথা বলছি, মাথায় ঘুরছে আমি অবজেকটিভিটি মেইনটেইন করছি তো! বিবিসিতে কাজ না করলে চিন্তাটাই হয়তো মাথায় আসত না। সেদিক থেকে বলব, বিবিসিতে কাজ করে যে আউটপুট দিতে পারছি, লোকালি কাজ করলে হয়তো ততটা দেওয়া হয়ে উঠত না। আজ আমি দেশে ফিরে কোনো মিডিয়ায় জয়েনও যদি করি, ১৬ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকেই আমার আউটপুট হবে।

কালের কণ্ঠ : সাংবাদিক হিসেবে আপনি কতখানি অর্জনের স্বপ্ন দেখেন?

সাবির মুস্তাফা : খুব ভালো সাংবাদিক হওয়া। সাংবাদিকতা করে অন্য কিছু অ্যাচিভ করার ভাবনা আমার নেই। আমি অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে জড়িতও না, না কোনো সংস্থা, না কোনো এনজিও বা ক্যাম্পেইন গ্রুপ।

কালের কণ্ঠ : সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সাবির মুস্তাফা : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।

(সাক্ষাতকারটি কালের কণ্ঠের কথায় কথায় বিভাগে ১৫ নভেম্বর ২০১৫ তারিখে প্রকাশিত-মুক্তবাক)




 আরও খবর