www.muktobak.com

মেঘের খোঁজ রাখে না কেউ


 ইমন রহমান    ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সোমবার, ২:৩৬    দেশ


সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের সাত বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে নিজ বাসায় খুন হন তারা। এখনো তাদের খুনি শনাক্ত হয়নি। আর অগ্রগতির কোনো তথ্যও জানাতে পারেনি হত্যা মামলাটির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। সাগর-রুনির একমাত্র ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ এখন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র; থাকে রাজধানীর রাজাবাজারে নানি নুরুন নাহার মির্জার কাছে। অবশ্য তার খবর এখন আর কেউই রাখেন না। এমনকি শিশুটির কোনো খোঁজ রাখেন না এই সাংবাদিক দম্পতির কোনো সহকর্মীও। তবে হত্যাকাণ্ডের বার্ষিকী এলেই সরব হয়ে ওঠে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো। বিচারের বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপও এখন আর চোখে পড়ে না। ছয়বার বদল হয়েছে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা; প্রতিবেদন জমার দিন পেছান হয়েছে ৬২ বার। মামলাটির তদন্তভার এখন র‌্যাবের হাতে।

সাগর-রুনি ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতের কোনো একসময় খুন হন। পরদিন সকালে নানিকে ফোন করে খবরটি দেয় তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মেঘ। এরপর মেয়ের বাসায় গিয়ে শোবার ঘরে দুজনের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পেয়ে তিনি অন্যদের জানান। এ হত্যাকাণ্ডের পর তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর সাত বছর পেরিয়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বদল হয়েছে একাধিকবার। তবে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি আজও।

গত শনিবার রাতে পশ্চিম রাজাবাজারে রুনির মায়ের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, অতিথি কক্ষের দেয়ালে ঝুলছে মা-বাবার সঙ্গে মেঘের বড় বড় ছবি। মেঘকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি করতেও স্বজনরা রাজি হননি। হত্যা মামলাটির বাদী রুনির ভাই নওশের আলম রোমান  বলেন, ‘মেঘ এখন পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এবার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে। মাঝে মধ্যেই ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে, মা-বাবার কথা বলে! তবে এখন আর কান্নাকাটি করে না। কিছু জানতেও চায় না।’ মামলার প্রসঙ্গ উঠতেই হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বিচার পাব বলে মনে হয় না। বিচারের আশা অনেকটা ছেড়েই দিয়েছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা আর সরকারের সদিচ্ছার অভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িতরা ধরা পড়ছে না। মোট ছয়বার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। কেউ আসামিদের শনাক্তও করতে পারেনি।’

রুনির ভাইয়ের অভিযোগ, ‘এখন র‌্যাবেরও কোনো তৎপরতা নেই। মাঝে মধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফোন করেন। তারা না পারলে তদন্তের দায়িত্ব অন্য কোনো সংস্থাকে দিতে পারে।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘নিশ্চয়ই প্রভাবশালী কেউ জড়িত আছে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে। না হলে এতদিনে আমরা বিচার পেতাম।’

নওশের আরও বলেন, “হত্যাকাণ্ডের একদিন পরই প্রধানমন্ত্রী গণভবনে ডেকে কথা বলেন আমাদের সঙ্গে, সেখানে সবার সামনে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে মেঘের সব দায়িত্ব আমার।’ অথচ গত সাত বছরে একবারও মেঘের খবর নেয়নি সরকারের কেউ। নিরাপত্তারও কোনো ব্যবস্থা করেনি।” রুনির কর্মস্থল এটিএন বাংলার কেউও এখন আর মেঘের কোনো খবর নেয় না বলেও জানান তিনি।

সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে ৬২ দিনের মাথায় (২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল) হাইকোর্টে ‘ব্যর্থতা স্বীকার করে’ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চায় সংস্থাটি। এরপর আদালতের নির্দেশে তদন্তভার নেয় র‌্যাব। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ‘ব্যর্থতা স্বীকার না করলেও’ হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় তারাও পড়েছে ‘ইমেজ সংকটে’।

এ মামলার বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই হত্যা মামলাটি খুবই স্পর্শকাতর। তদন্ত কর্মকর্তা মামলার বিষয়ে র‌্যাবের উচ্চপর্যায়ে নিয়মিত অবহিত করছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।’ সাত বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সুস্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি। মামলাটির তদন্তভার অন্য কোনো সংস্থাকে হস্তান্তর করা হবে কি না এ প্রশ্ন করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

(মেঘের খোঁজ রাখে না কেউ রিপোর্টটি দৈনিক রুপান্তরে প্রকাশিত। - মুক্তবাক)




 আরও খবর