www.muktobak.com

‘রেডিও দেখি, টেলিভিশন পড়ি, পত্রিকা শুনি’; প্রযুক্তির প্রভাবে পরিবর্তিত গণমাধ্যম


 সাগর হোসেন তামিম    ৩০ জুন ২০১৯, রবিবার, ৯:৩০    দেশ


উপরের শিরোনাম দেখে হয়তো ভাবতে পারেন রেডিও দেখা, টেলিভিশন পড়া আর পত্রিকা শোনা কিভাবে সম্ভব? হ্যাঁ, বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণ এসবই সম্ভব। সময়ের পরিবর্তনে গণমাধ্যমে সংবাদের প্রচারের ধারা ও কৌশল পরিবর্তন এসেছে। প্রথমেই আসি গণমাধ্যম বা সংবাদমাধ্যমের কাজ কী? সংবাদ মাধ্যমের কাজ তথ্য-সংবাদ-বিশ্লেষণ সংগ্রহ করে তা সংশ্লিস্ট মাধ্যমে প্রচার করা।

এক সময় সংবাদ জানতে হলে শুধু ছাপা কাগজের পত্রিকা পড়ে জানতে হতো অথবা রেডিও-টেলিভিশনে প্রচার হলে তা জানতে পারতেন দর্শকরা। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ এখন সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। গণমাধ্যমও তার স্ব স্ব অবস্থানে থেকে এই প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়েছে। যে কারণে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোন গণমাধ্যম চায় তাদের আধেয়গুলো সর্বাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।

এরই ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসুবক, ইউটিউব, টুইটারসহ বিভিন্ন অনলাইন বা ওয়েবসাইটে গণমাধ্যমগুলো তাদের আধেয় তথা সংবাদ-তথ্য শেয়ার করে অথবা সরাসরি প্রকাশ করে। এতে আরো গণমানুষের কাছে পৌঁছার সুযোগ ঘটছে। 

এখন বলি কিভাবে রেডিও দেখি। চলতি বিশ্বকাপের সরাসরি লাইভ স্কোর ও কমেন্ট্রি জানতে ফেসবুকে সার্চ দিয়েছিলাম। এখানে দেখলাম রেডিও টুডেতে সরাসরি ফেসবুকে ভিডিওসহ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ধারাবর্ণনা। একই পরিবেশনা ছিল রেডিও এবিসিতেও। অর্থাৎ রেডিও যা এক সময় শুধু শোনা যেত, সেই রেডিও  এখন দেখাও যায়!

এরপর আসি টেলিভিশনে। দেশের প্রায় সকল টেলিভিশন তাদের প্রচারণা টেলিভিশন বাক্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেনি। প্রতিটি টেলিভিশনেরই নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে। সেখানে নিউজের ভিডিও ছাড়াও লিখিত আকারে দেয়া সংবাদ পাঠ করা যায়। অর্থাৎ আমরা এখন টেলিভিশনও পড়তে পারি! এছাড়া টেলিভিশনগুলো তাদের প্রায় সকল পরিবেশনা গণমানুষের কাছে পৌছে দেয়ার জন্য সহযোগিতা নেয় ফেসবুক- ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

যা আমরা টিভি পর্দায় দেখতে পাই, তা অনলাইন প্লাটফর্মে দেখতে পাই। টেলিভিশনের বিভিন্ন কনটেন্ট তথা সংবাদ-প্রতিবেদন এমনকি বিনোদনের পুরো বা অংশ বিশেষও পর্যায়ক্রমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়। প্রত্যেক টেলিভিশনেরই রয়েছে ইউটিউব চ্যানেল। সেখানে ্ও থাকছে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত কন্টেন্টের প্রাচুর্য।

সর্বশেষ ছাপা পত্রিকাতো এখন অনলাইন বা ওয়েবসাইট ছাড়া প্রায় অচল। আশংকা রয়েছে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো ছাপা কাগজ থাকবে না। তাই পত্রিকা এখন অনলাইন ভার্সনে চলে গেছে। পত্রিকাগুলো তাদের সংবাদ প্রতি মুহুর্তেই নিজেদের অনলাইনসহ ইউটিউব, ফেসবুকে শেয়ার করে, প্রকাশ করে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

যে পত্রিকার ভূমিকা ছিল শুধুমাত্র ছাপা কাগজে সংবাদ প্রচার, সেই পত্রিকা এখন সংবাদের ভিডিও, বক্তব্য, অডিও পত্রিকার ওয়েবসাইটে তুলে ধরছে, ফেসবুকে সরাসরি লাইভ প্রচার করছে। যেমন: ছাপা পত্রিকা প্রথম আলো’র ফেসবুকের লাইভের মাধ্যমে সরাসরি শিল্পীদের নিয়ে বিনোদনের খবর পাচ্ছি, বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, এমনকি বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরুর আগে মাঠে পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছি ফেসবুকে প্রথম আলো’র লাইভ থেকে। শুনতে পাচ্ছি, সর্বশেষ বক্তব্য। পত্রিকা এখন শোনাও যায়, দেখাও যায়।  অর্থাৎ পত্রিকার দেয়া কনটেন্টগুলো এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি। আবার শুনতেও পাচ্ছি।

আর এসবই সম্ভব হয়েছে গণমাধ্যমের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার আর গণমানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার মানসিকতা থেকে। এক্ষেত্রে একটি বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে। এক সময় যখন বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ ২৪.কম চালু হলো, তখন অনেক সাংবাদিককে এ নিয়ে উপহাস করতে শুনেছি। বলতো, বিডি নিউজ, ব্যাডা নিউজ, এগুলো কি কাগজে পড়া যায়, পড়তে কম্পিউটার-ইন্টারনেট লাগে। এগুলো দিয়ে কি হবে?

সেই সময় এখন পরিবর্তিত হয়েছে। এখন বিডিনিউজ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম। এখানে সংবাদের সাথে ভিডিও-অডিও ছাড়াও সরাসরি টকশো’ প্রচার হচ্ছে। সরাসরি ফেসবুকে টকশো’ও সম্প্রচার হয় দেশের অন্যতম অনলাইন গণমাধ্যম ‘বাংলাট্রিবিউনে’। রেডিও-টেলিভিশন-সংবাদপত্র সবাই এখন প্রতিযোগিতায় কত দ্রুত তাদের পরিবেশনা গণমানুষের কাছে তুলে ধরা যায়। এক্ষেত্রে স্ব স্ব গণমাধ্যম তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের লোগো বা নাম সহকারে তাদের নিজস্ব ফেসবুক একাউন্ট বা পেইজ থেকে প্রামাণ্যচিত্র, তথ্য এবং সংবাদ প্রচার বা পরিবেশন করে যাচ্ছে।

আর সাধারণ জনগণও খুশি দ্রুত নির্ভরযোগ্য মাধ্যম থেকে তথ্য-সংবাদ পেয়ে। কারণ যে কোন ঘটনা দ্রুতই জনগণ তাদের নিজস্ব সরাসরি পরিবেশনার মাধ্যমে জেনে যাচ্ছে। ছাপার কাগজের পত্রিকা পরের দিন পড়বে তাদের এই মানসিকতা দিন দিন কমে আসছে। আবার কর্মব্যস্ত সময়ে টেলিভিশন সেটের সামনে যা্ওয়ার চেয়ে হাতের মুঠোয় থাকা মোবাইলই কম ঝামেলার। 

ফলে দ্রুত যদি কোন নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম থেকে তথ্য-সংবাদ পাওয়া যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের তার গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি।

প্রযুক্তির এই পরিবর্তন কেমন প্রভাব রেখেছে দেশজুড়ে? বিশেষ করে রাজধানী শহর ঢাকার বাইরে?  উদাহরণ হিসেবে বলা যায় মাদারীপুরের কথা। ২০০৬ সাল থেকে পরীক্ষামূলক ও ২০০৮ সাল থেকে মাদারীপুরের বিশ্লেষণ পত্রিকাটি প্রথমে সাপ্তাহিক ও পরে ২০১০ সাল থেকে দৈনিক হিসেবে প্রকাশিত হয়। ২০০৬ সালে পরীক্ষামূলক অবস্থা থেকেই পত্রিকাটি অনলাইনে প্রকাশ হয়, অর্থাৎ জেলা পর্যায়ের একটি পত্রিকার ওয়েবসাইট ছিল শুরু থেকেই। তখনকার সময়ে দেশের খুব বেশি পত্রিকা অনলাইনে অর্থাৎ ওয়েবসাইটে প্রচার ছিল না। মাদারীপুরবাসীর জন্য এটি ছিল একটি সময়ের অগ্রগামী বিষয়। সেই সময় থেকেই আমাদের স্লোগান ছিল- ‘বিশ্লেষণ: একটি নির্ভীক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম’। সারাদেশের মধ্যে মাদারীপুরের ‘দৈনিক বিশ্লেষণ’-এর ফেসবুকে সরাসরি সংবাদ পরিবেশনা অনন্য

এই গণমাধ্যমটি টেলিভিশনের মত করে মাদারীপুরের স্থানীয় এবং জাতীয় সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের তথ্য-সংবাদ মানুষের কাছে অবিকৃতভাবে তুলে ধরছে। যারা শিক্ষিতজন তারা অনলাইন থেকে দ্রুত সংবাদ পড়ে নিতে পারেন।

সাগর হোসেন তামিম : চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের মাদারীপুর প্রতিনিধি




 আরও খবর