www.muktobak.com

বাংলাদেশে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন? সাংবাদিক ও পাঠকের চোখে


 তাফসীর বাবু, বিবিসি বাংলা, ঢাকা    ৯ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ১:৫০    দেশ


বাংলাদেশে গণমাধ্যম কিংবা এর কর্মীরা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে সেটা নিয়ে আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক বেশ পুরনো। ২০১৯ সালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস নামে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেখানে ১৮০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এর আগের বছরের তুলনায় চার ধাপ নেমে ১৫০এ দাঁড়িয়েছে।

অথচ গত সপ্তাহে লন্ডনে বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম খোদ ব্রিটেনের গণমাধ্যমের চেয়েও স্বাধীন। বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কী মনে করেন গণমাধ্যমকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষ?

পুরনো ঢাকার গোপীবাগ। রাস্তার পাশে দেয়ালে সাঁটানো রয়েছে একটি জাতীয় দৈনিকের পাতা। সেখানে চোখ বোলাচ্ছেন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। কাজের ফাঁকে অনেকটা এভাবেই দেশের খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করেন তিনি। পত্রিকায় কি সব খবর তিনি পান? আমার এই প্রশ্নের জবাবে মি. রহমান বলেন, "আমার কাছে মনে হয় সাংবাদিকরা চেষ্টা করে। কিন্তু তারা প্রশাসনের দিক দিয়ে বাধার মুখে পড়ে। যার কারণে সবসময় সঠিক খবর দিতে পারে না।"

বিষয়টি নিয়ে আরো কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলি। সবার মন্তব্যই অনেকটা একইরকম। এর মধ্যে শরীফুন্নেসা নামে একজন বলছিলেন, "আমাদের চারপাশে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেগুলোর সঠিক নিউজ পাচ্ছি বলে মনে হয় না। অন্তত: আমরা যেভাবে ঘটনাগুলো দেখি সেভাবে মিডিয়াতে আসে না।" বোঝাই যায় অনেক মানুষ মনে করেন গণমাধ্যম সবসময় সব খবর দিচ্ছে না, কিংবা দিতে পারছে না। তারা মনে করেন, এবং এর পেছনে কাজ করে বিভিন্ন ধরণের চাপ। কিন্তু এরকম চাপ কি আসলেই আছে?

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ঢাকায় সাংবাদিকতা করছেন উদিসা ইসলাম। অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের এই প্রধান প্রতিবেদক মনে করছেন, সাংবাদিকদের উপর চাপ আছে। কখনো সেটা কর্পোরেট, কখনো বিজ্ঞাপন বা প্রভাবশালী কোন মহলের কাছ থেকে সেই চাপ আসে। কিন্তু এর বাইরেও আরো একধরণের চাপ আছে, যেটা অনেক সময় সাংবাদিকদের সেলফ সেন্সরশিপে বাধ্য করে। তিনি বলছিলেন, "বিভিন্ন যে আইন আছে, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বলেন বা ৫৭ ধারার মামলা বলেন সেগুলো সাংবাদিকদের মাথায় আগে থেকেই থাকে। সে ভাবে আমার প্রতিবেদনের কারণে আমাকে ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। ফলে সে আগে থেকেই সেলফ সেন্সরশিপে চলে যায়।"

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের যে বৈশ্বিক প্রতিবেদন সেখানেও এই ধারনার প্রতিফলন দেখা যায়। ২০১৯ সালের ঐ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৫০ তম। অথচ গতবছরও তা ছিলো ১৪৬ তম। অর্থাৎ গণমাধ্যম স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশের অবনতি ঘটছে। যদিও সরকার এর বিপরীত মতই দিচ্ছে।

বাংলাদেশে গণমাধ্যম কতটা স্বাধীন? সাংবাদিক ও পাঠকের চোখে রিপোর্ট ৮ জুলাই বিবিসি বাংলা অনলাইনে প্রকাশিত। - মুক্তবাক




 আরও খবর