www.muktobak.com

ভালো নেই নাগরিক


 মুক্তবাক রিপোর্ট    ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার, ১০:৫৭    দেশ


অকাল প্রয়াত টিভি ব্যক্তিত্ব,ব্যবসায়ী,মেয়র আনিসুল হকের টেলিভিশন চ্যানেল ‘নাগরিক’। ২০১৫ সালে লাইসেন্স পাওয়ার পর চ্যানেলটি পরীক্ষামূলক সম্প্রচার শুরু করে ২০১৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত বারোটা থেকে। মাসখানেক পর ১ মার্চ থেকে শুরু হয় পূর্ণাঙ্গ সম্প্রচার। তবে তার আগেই চ্যানেলটি স্বপ্নদ্রষ্টা আনিসুল হকের মৃত্যুতে একটু হোঁচট খায়। তার স্ত্রী রুবানা হক হাল ধরায় সে অনিশ্চয়তা কেটে যায় দ্রুতই।

 খবর সর্বস্ব না করে চ্যানেলটি দাঁড়ায় নাটককে ফোকাস করে। যদিও শুরুতে বলা হচ্ছিল এটি হবে দেশের প্রথম ফিচার টেলিভিশন। পরে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারের মাধ্যমে চ্যানেলটি পৌঁছে যায় ক্রীড়ামোদী জনসাধারণের ঘরে ঘরে। বাংলা নাটক দিয়ে ব্র্যান্ডিংয়ে খুব একটা সফল না হলেও ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার নাগরিককে ব্যাপক পরিচিতির পাশাপাশি দেয় ব্যবসায়িক সাফল্যও। তবে যাত্রার মাত্র দ্বিতীয় বছরেই দানা বাঁধতে থাকে নানা সমস্যা।

 অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্ব, যখন তখন ছাঁটাই, বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে আয় কম হওয়াসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত চ্যানেলটি।  রয়েছে সময়মত বেতন না হওয়ার অসন্তুষ্টিও।

 প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে চ্যানেলটির শুরু থেকেই দায়িত্বপালন করে আসছিলেন ডা. আব্দুন নূর তুষার। অভ্যন্তরিণ দ্বন্দ্বের জের ধরে দুই মাস ধরে অফিসে যান না তিনি। অথচ তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। তিনিও চাকরি ছেড়ে দেননি।   

 সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে প্রেজেন্টেশন ইনচার্জ ইশফাতু বড়ুয়া দীপনকে ডেকে অব্যাহতিপত্র ধরিয়ে দেয় এইচআর বিভাগ। সেখানে ”স্বেচ্ছায় চাকরি হতে ইস্তফা দিচ্ছি” লেখা পত্রে সই দিতে বাধ্য করা হয়। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই দুইমাসের বেতন দিয়ে তাকে চাকরিচ্যূত করে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ।

 একইভাবে চাকরি যায় এমসিআর এক্সকিউটিভ মাইনুল হাসান সিদ্দিকী ও গোলাম নূর জাবেদের। তাদেরও ২মাসের বেতনসহ ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয়।  নাগরিকের শুরুর কর্মী ছিলেন মাইনুল হাসান সিদ্দিকী।

 সেপ্টেম্বরেই চাকরিচ্যুত হন আইটি বিভাগের দুজনকে। দেড় বছর আইটি এক্সকিউটিভ হিসেবে কাজ করা এসকে মুস্তাকিম এবং এজাজ আহমেদ শুভকে একই কায়দায় অব্যাহতি দেয়া হয়।

 নাগরিক টেলিভিশন সম্প্রচারে আসার আগ থেকেই মেইনটেন্যান্স বিভাগের টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করেন নাদির আহমেদ।  পূর্ব নোটিশ ছাড়া তাকেও চাকরিচ্যুত করা হয় সেপ্টেম্বরে। এ ছাড়া গত দুই মাসে চাকরি গেছে অন্তত ৭জন অফিস সহকারীর।  

 

নাগরিকের এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া চলছে গত কয়েকমাস ধরেই। তবে এদের সবাইকে একসাথে একই দিনে অব্যাহতিপত্র দেয়া হয়নি। পূর্ব ঘোষণা বা আভাস ছাড়াই একেকদিন একেকজনকে ডেকে নিয়ে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিলাম লেখা কাগজে সই নেয়া হয়েছে।

 

এ অবস্থায় চ্যানেলটির কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ছাঁটাই আতঙ্ক। প্রতিনিয়ত আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তা কাজ করতে হচ্ছে তাদের। আর বোঝার উপর শাকের আঁটি হয়ে দেখা দিয়েছে অনিয়মিত বেতন। এসব নিয়ে চ্যানেলটিতে কর্মরত একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে মুক্তবাক।তারা জানান, দুই মাসের বেতন বকেয়া থাকায় অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে।

যাদের বেতন ৩০ হাজার বা তার কম, তারা সেপ্টম্বরের বেতন পেয়েছেন ১৯ অক্টোবর। ৪০ হাজারের বেশি যাদের বেতন তারা এখনও বেতন পাননি।

চাকরিচ্যুত আইটি এক্সকিউটিভ এজাজ আহমেদ শুভ মুক্তবাককে জানান, চাকরিচ্যুতির আগের দিনও তিনি অফিস করেছেন। কোনো ধরনের আভাসও দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, নাগরিকের চাকরিই উপার্জনের একমাত্র উপায় হওয়ায় পরিবার নিয়ে চলতে মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন তিনি। এটা খুব তিক্ত অভিজ্ঞতা মন্তব্য করেন এজাজ আহমেদ শুভ। কোনো রাগ ক্ষোভ অভিমান বা দাবি দাওয়া আছে কিনা  জানতে চাইলে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন, কী লাভ

 




 আরও খবর