চাকরিচ্যুত ভুক্তভুগীর জিজ্ঞাসা

দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম তখন কোথায় ছিল ?

দেশ

মুন্নাফ রশীদ মুন্না

(১ বছর আগে) ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, শনিবার, ৫:২৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ আপডেট: ৫:২৬ অপরাহ্ন

talktrain

২০২০ সালে সময় টিভি থেকে যখন আমিসহ ৩ জন রিপোর্টারের চাকরি খাওয়া হয়েছিল তখন দেশি বিদেশি গণমাধ্যম কোথায় ছিল? এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০-৪০জন ভুক্তভোগী আছে। এসব ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে মায়াকন্না দেখানোর মতো কাউকে তো তখন পাওয়া যায়নি! কারণ তখন স্বৈরাচার এবং তার দোসররা প্রকাশ্যে সক্রিয় ছিল, আর এখন তলে তলে। 

কারো চাকরি চলে যাক এটা আমি চাই না। তবে ইতোপূর্বে অকারণে অজানা স্থান থেকে আসা তালিকা ধরে যাদের চাকরি খাওয়া হয়েছিল তারা কি বানের জলে ভেসে সময় টিভির কিনারে ঠেকেছিল?

সময় টিভির সাবেক এমডি স্বৈরাচারের দোসর জোবায়ের আহমেদ জো'র রুমে ঢুকতে রিপোর্টারদের অনুমতি লাগতো না। যেদিন আমার চাকরি খেলো সেদিন আমি ব্যাখ্যা জানতে তার রুমে গিয়েছিলাম, তিনি আমাকে ঢুকতে দেননি, কোনো কথা বলার সুযোগ দেননি। আমি শুধু তার কাছে জিজ্ঞেস করতাম 'কি কারণে আমার চাকরি খেলেন?' পরবর্তীতে ফোন করে জানতে চেয়েছিলাম, আমার ফোন ধরেননি। এসএমএসে জানতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আজও উত্তর পাইনি। 

তখন তো বিবিসি আমার উত্তর খুঁজতে সহোযোগিতা কিংবা পাশে দাঁড়ায়নি! চাকরি নয় অন্তত সেই অজানা উত্তরটা কেউ এনে দিতে পারবেন?

করোনার সময় স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে যায় এমন একটি প্রতিবেদন বানিয়েছিলাম, যা পরবর্তীতে প্রচার করেনি স্বৈরাচারের সহযোগিরা। আমি কেন ওই রিপোর্ট তৈরি করেছিলাম তার ব্যাখ্যা জানতে রাত ২টার সময় কল দিয়ে আমাকে ধমকিয়েছিলেন সময় টিভির তৎকালীন এমডি। ওই রিপোর্ট নিয়ে রোমেল-লোপা গং আমাকে নিউজরুমের মধ্যেও শাসিয়েছিল। 

এরপর করোনাও চলে গেল আমার চাকরিও চলে গেল। তবুও জানতে পারলাম না কেন তিনি আমার চাকরি খেয়েছিলেন।

মুন্নাফ রশীদ মুন্না : সাবেক সংবাদকর্মী, সময় টিভি