২০২৫ সালে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান ছিল ফিলিস্তিন

বিশ্ব

আলজাজিরা

(১ সপ্তাহ আগে) ১ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০:৪২ অপরাহ্ন

talktrain

গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে স্পেনের ট্রেড ইউনিয়নগুলোর ডাকে সাধারণ ধর্মঘট চলাকালে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ইউনিয়নের মতে, ২০২৫ সালে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্থান ছিল ফিলিস্তিন। আর সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য ছিল গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চল।

আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফেডারেশন (আইএফজে) জানিয়েছে, গত বছর ওই অঞ্চলে ৭৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন—যা নিহত মোট ১২৮ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর অর্ধেকেরও বেশি। বুধবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের পরেই রয়েছে আফ্রিকা (১৮ জন), এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল (১৫ জন), আমেরিকা মহাদেশ (১১ জন) এবং ইউরোপ (১০ জন)। নিহতদের বড় অংশই ছিলেন পুরুষ, তবে তালিকায় ১০ জন নারী সাংবাদিকও রয়েছেন।

আইএফজের মহাসচিব অ্যান্থনি বেলাঞ্জার বলেন, “এক বছরে ১২৮ জন সাংবাদিক নিহত হওয়া কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। এই মৃত্যুগুলো নির্মমভাবে মনে করিয়ে দেয় যে, শুধু নিজেদের কাজ করার কারণেই সাংবাদিকদের দণ্ডমুক্তভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।”

নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ছিলেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিকরা। ২০২৫ সালে ৫৬ জন ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমকর্মী নিহত হন। আইএফজে অনুযায়ী, এর পরেই রয়েছে ইয়েমেন (১৩ জন), ইউক্রেন (৮ জন) এবং সুদান (৬ জন)।

প্যারিসভিত্তিক এই মিডিয়া ইউনিয়ন জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ কাভার করার সময় আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফকে হত্যার ঘটনা ফিলিস্তিনে গত বছর নিহত ৫৬ জন সাংবাদিকের মধ্যে সবচেয়ে “প্রতীকী”। ২৮ বছর বয়সী আনাস আল-শরিফ ১০ আগস্ট গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের বাইরে একটি মিডিয়া টেন্টে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে নিহত হন।

ওই হামলায় আরও নিহত হন আল জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ কুরেইকেহ, ক্যামেরা অপারেটর ইব্রাহিম জাহের ও মোহাম্মদ নওফাল, ফ্রিল্যান্স ক্যামেরা অপারেটর মোমেন আলিওয়া এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মোহাম্মদ আল-খালিদি।

আইএফজে আরও উল্লেখ করেছে, সেপ্টেম্বরের শুরুতে ইয়েমেনের একটি পত্রিকা অফিসে ইসরায়েলি হামলাকে “গণমাধ্যম অফিসে চালানো সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হুতি-সম্পর্কিত ‘২৬ সেপ্টেম্বর’ পত্রিকার ১৩ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী ওই হামলায় নিহত হন, পাশাপাশি আরও ২০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

আরও নয়টি মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, সিরিয়ায় দুইজন ও ইরানে দুইজন সাংবাদিকসহ কয়েকজনকে তাদের পেশাগত কাজের কারণেই “লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছে” বলে জানিয়েছে আইএফজে।

২০২৫ সালে টানা তৃতীয়বারের মতো মধ্যপ্রাচ্য ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী অঞ্চল। তবে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী কারাবন্দি ছিল এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে। ২০২৫ সালে অধিকাংশ আটক ঘটেছে চীন ও হংকংয়ে—এই দুই জায়গাতেই মোট ১৪৩ জন সাংবাদিক বন্দি ছিলেন। এর পরেই রয়েছে মিয়ানমার (৪৯ জন) এবং ভিয়েতনাম (৩৭ জন)।

গত বছর ইউরোপও সাংবাদিক আটক হওয়ার একটি বড় কেন্দ্র ছিল। সেখানে ১৪৯ জন সাংবাদিক কারাবন্দি হন। আইএফজে জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেড়েছে, যার পেছনে আজারবাইজান ও রাশিয়ায় “দমন-পীড়নের তীব্রতা বৃদ্ধি”কে দায়ী করা হয়েছে।

বিশ্ব থেকে আরও পড়ুন

সর্বশেষ